News Hungama:
কলকাতা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শহরের সাহিত্য জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা, যখন প্রথমবারের মতো ঔপন্যাসিক কার্তিকেয় বাজপেয়ী তাঁর বই দ্য আনবিকামিং উন্মোচন করলেন। যে শহরে সাহিত্য ও আধ্যাত্মিকতা দীর্ঘদিন ধরে এক পবিত্র সংলাপে আবদ্ধ, সেই কলকাতাতেই বইটির প্রকাশ এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ‘সিটি অব জয়’-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠান লেখালেখি, চিন্তন ও আত্মঅনুসন্ধানের ঐতিহ্যকে নতুন করে উদযাপন করল।

পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশিত এই বইটির মোড়ক উন্মোচন হয় আইকনিক অক্সফোর্ড বুকস্টোরে। অনুষ্ঠানটি ছিল অন্তরঙ্গ ও ভাবনাপ্রবণ, যেখানে ৯১.৯ ফ্রেন্ডস এফএম-এর হেড জিমি ট্যাংগ্রি কার্তিকেয় বাজপেয়ীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সেশনটিতে বর্ষীয়ান অভিনেতা ও লেখক শ্রী বারুণ চন্দ্রের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা ও সাহিত্যিক গাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি করে লেখক, গবেষক ও পাঠকদের উপস্থিতিতে আলোচনাটি এক শান্ত, মননশীল আবহ তৈরি করে যা কলকাতার চিন্তা, বিশ্বাস ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে বইটির দার্শনিক গভীরতার প্রতিফলন ঘটায়।
বইটির ভূমিকায় পরম পবিত্র দালাই লামা এবং স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দের অবদান রয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় এই ভূমিকাগুলির উল্লেখ করা হয়, যা বইটির আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করে এবং এক জীবন্ত অন্তর্দর্শন ও করুণার ধারার সঙ্গে বইটিকে যুক্ত করে।
বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লেখক কার্তিকেয় বাজপেয়ী বলেন, “দ্য আনবিকামিং এই উপলব্ধির উপর ভিত্তি করে লেখা যে আমাদের অধিকাংশ দুঃখ-কষ্টের উৎস হলো ভয় ও প্রত্যাশা থেকে গড়ে ওঠা পরিচয়ের সঙ্গে আঁকড়ে থাকা। এটিই মূলত একজন মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধ করে দেয়। তাই নিরাকার হোন, চিন্তার ভার নামান এবং নিজের তৈরি করা ভাবমূর্তি ও অন্যের আরোপিত ধারণা থেকে নিজেকে মুক্ত করুন। ‘আনবিকামিং’ হলো এক নীরব প্রত্যাবর্তন যেখানে জীবনের উপর কোনো উদ্দেশ্য চাপিয়ে না দিয়ে তাকে নিজের অর্থ উন্মোচনের সুযোগ দেওয়া হয়। আধুনিক জীবনে অন্তর্দর্শন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; এটি আমাদের সচেতনতা ও উপস্থিতির মধ্যে স্থির রেখে স্পষ্টতার সঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করে।”
অনাসক্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “মায়া দুটি শক্তির মাধ্যমে কাজ করে ভয় ও লোভ। এই দু’টি আমাদের মনোযোগকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। অনাসক্তি মানে সরে যাওয়া নয়, বরং যা বাস্তব তার দিকে মনোযোগের প্রত্যাবর্তন।”
এই কথোপকথন শ্রোতাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে এবং বইয়ের মূল বিষয়বস্তু পরিচয়, অন্তর্দৃষ্টির স্বচ্ছতা, জীবনের উদ্দেশ্য ও ‘আনবিকামিং’-এর প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আধুনিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্থিতিস্থাপকতা এবং অর্থের সন্ধান নিয়ে ভাবনার মধ্য দিয়ে ক্রমশ অস্থির হয়ে ওঠা পৃথিবীতে আত্মসমীক্ষার গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। শ্রোতাদের মনোযোগী অংশগ্রহণ আলোচিত বিষয়গুলির প্রাসঙ্গিকতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।
দ্য আনবিকামিং একটি মননশীল উপন্যাস, যার কেন্দ্রে রয়েছে সিদ্ধার্থ একজন খ্যাতনামা ক্রিকেটার এবং তাঁর দীর্ঘদিনের কোচ অজয়-এর সম্পর্ক। গুরু-শিষ্য সম্পর্কের এই বন্ধন যখন পরীক্ষার মুখে পড়ে, তখন দু’জনকেই পরিচয়ের মায়া, অজানার ভয় এবং প্রত্যাশার ভারের মুখোমুখি হতে হয়। আবেগঘন সত্য ও দার্শনিক অনুসন্ধানের সঙ্গে গল্প বলার শৈলী মিলিয়ে উপন্যাসটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পরিচয় ছেড়ে নিজের প্রকৃত সত্তায় ফিরে যাওয়ার শিল্পকে অনুসন্ধান করে।
লেখক সম্পর্কে:
কার্তিকেয় বাজপেয়ী একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং নয়াদিল্লিতে অবস্থিত একটি বুটিক ল ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা। এমবিএ ডিগ্রিধারী কার্তিকেয় কর্পোরেট মার্কেটিংয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি, আইনগত দক্ষতা এবং মানবিক বোধের এক অনন্য সংমিশ্রণ গড়ে তুলেছেন। তবে ব্যবসা ও আইনের জগতের বাইরে তাঁর প্রকৃত যাত্রা ছিল অন্তর্মুখী নীরবতা, সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দিকে।
শৈশব থেকেই ক্রিকেটপ্রেমী কার্তিকেয় এগারো বছর বয়সেই অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় স্তরে নিজের রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে তিনি লইয়ার্স ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপে টিম ইন্ডিয়া লইয়ার্স-এর হয়ে খেলেন। খেলাধুলার শৃঙ্খলা তাঁকে যোগচর্চার ত্রাটক অনুশীলনের দিকে নিয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন, মহামুদ্রা–মহাযান বৌদ্ধ সাধনা এবং মহাবতার বাবাজির ক্রিয়া যোগ দ্বারা সমৃদ্ধ হয়।
তাঁর প্রথম কল্পকাহিনি এই অন্তর্দর্শনমূলক যাত্রা থেকে প্রাপ্ত উপলব্ধিগুলিকে একত্র করে, যেখানে পেশাগত দক্ষতা ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের মিলনে আবিষ্কৃত জ্ঞান পাঠকদের সামনে মেলে ধরা হয়। বইটি কার্তিকেয়র সচেতনভাবে বেঁচে থাকার আজীবন অনুসন্ধান এবং অন্যদের মধ্যে অন্তর্নিহিত স্থিরতা, শক্তি, সৃজনশীল প্রবাহ ও স্পষ্টতা আবিষ্কারে সহায়তা করার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।




