News Hungama:
কলকাতা, ২৪ মার্চ ২০২৬: ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের অংশ মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর তাদের ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন (DBS) ক্লিনিক চালু করার ঘোষণা করেছে। এই ক্লিনিকটি ভারতের মধ্যে একটি প্রথম উদ্যোগ, যা জটিল স্নায়বিক ও মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার রোগীদের জন্য নির্ভুল ও উন্নত চিকিৎসা প্রদান করবে।
এই ক্লিনিকটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. মিলিন্দ দেওগাঁওকর, ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোসার্জারি, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর। এটি নিউরো-রিস্টোরেশন ও নিউরোমডুলেশন ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রোগীকেন্দ্রিক, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার প্রতি হসপিটালের প্রতিশ্রুতি আরও শক্তিশালী করে। তাঁর সঙ্গে মূল টিমে রয়েছেন ডা. গৌরব সান্যাসী, কনসালট্যান্ট – ফিজিয়াট্রিস্ট (রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন)।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. শ্রেয়সী ঝা, কনসালট্যান্ট – নিউরোলজি (পার্কিনসনস ও মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার), যিনি মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার ক্লিনিকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এবং মিসেস শিবানি দেশমুখ, লিড নিউরো ফিজিওথেরাপিস্ট, যিনি নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকবেন।
ডিবিএস ক্লিনিকটি মুকুন্দপুর ইউনিট থেকে পরিচালিত হবে। প্রতি সোমবার ডিবিএস পরিষেবা এবং প্রতি শনিবার কমপ্লেক্স পেইন ক্লিনিক চালু থাকবে। মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার ক্লিনিক প্রতিদিন খোলা থাকবে, যাতে রোগীরা নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পান। ডা. শ্রেয়সী ঝা সোমবার ও শনিবার পূর্ণদিবস ক্লিনিকে থাকবেন এবং প্রয়োজনে ডিবিএস প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।
এই পরিষেবায় একটি সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, যেখানে নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, পেইন বিশেষজ্ঞ, রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ, ইমার্জেন্সি ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্সরা একসঙ্গে কাজ করবেন। পাশাপাশি, মিসেস শিবানি দেশমুখের নেতৃত্বে নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিক রোগীদের নিয়মিত পুনর্বাসন পরিষেবা প্রদান করবে।
এই সমন্বিত ব্যবস্থা রোগীদের রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ—সবকিছুতেই সহায়তা করবে। পার্কিনসনস ডিজিজ, ডিস্টোনিয়া, ট্রেমর, এপিলেপসি এবং জটিল ব্যথার মতো সমস্যার চিকিৎসায় এই ক্লিনিক বিশেষ ভূমিকা নেবে।
এই প্রসঙ্গে ডা. মিলিন্দ দেওগাঁওকর বলেন, “ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন জটিল স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু একটি সার্জারি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি এবং নির্ভুল চিকিৎসা প্রক্রিয়া, যেখানে রোগী নির্বাচন, পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও পরবর্তী ফলো-আপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুরে আমরা একসঙ্গে সব পরিষেবা দিয়ে রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়েছি।”
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, মণিপাল হসপিটাল কলকাতার বিভিন্ন ইউনিটে অভ্যন্তরীণ সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করবে। এছাড়াও, মুকুন্দপুরের বাইরেও অন্যান্য মণিপাল হসপিটালের সঙ্গে টেলি-পরামর্শ পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার সুবিধা পান।




