News Hungama:
কলকাতা, ১২ মে, ২০২৬: জটিল ক্যানসার অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা—রোবোটিক-সহায়ক প্রযুক্তি ধীরে ধীরে পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবার ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। জাতীয় প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে এবং আধুনিক চিকিৎসায় উন্নত প্রযুক্তির বাড়তে থাকা ভূমিকা উদযাপন করতে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট আয়োজন করল ‘রোবোটিক সামিট ২০২৬’। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমন বহু রোগী, যাঁরা রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি মণিপাল হাসপাতাল গোষ্ঠীর বিশিষ্ট চিকিৎসকরা অংশ নেন এবং আলোচনা করেন রোবোটিক-সহায়ক চিকিৎসা ও নির্ভুল প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ড. সুশ্মিতা মিত্র, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার মেশিন ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রাক্তন প্রধান এবং ফুল প্রফেসর (এইচএজি); ড. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর, মণিপাল হসপিটালস ইস্ট; ড. কুণাল সরকার, ডিরেক্টর – কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর ক্লাস্টার; ড. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর – মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার কেয়ার, মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর, সল্টলেক ও শিলিগুড়ি ক্লাস্টার; ড. বিকাশ কাপুর, ক্লাস্টার ডিরেক্টর – অর্থোপেডিক্স, মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টার; ড. অরুণাভ রায়, এইচওডি – গাইনোকলজিক অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গাইনোকলজিক অনকোলজি, মণিপাল হসপিটালস ব্রডওয়ে ও সল্টলেক; ড. অভয় কুমার, ডিরেক্টর – ইউরোলজি ও ইউরো-অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি, মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর, ব্রডওয়ে ও সল্টলেক; ড. সুমন্ত দে, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও এইচওডি – রোবোটিক, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক, ব্যারিয়াট্রিক ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস; ড. শুভাশিস সাহা, ক্লিনিক্যাল লিড – পেডিয়াট্রিক সার্জারি ও পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর; এবং ড. দেবাশিস চক্রবর্তী, ডিরেক্টর – অর্থোপেডিক্স, মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল গোষ্ঠীর আরও বহু বিশিষ্ট চিকিৎসক ও অতিথিবৃন্দ।
“দ্য রোবোটিক বেঞ্চমার্ক” হিসেবে স্বীকৃত মণিপাল হসপিটালস ইস্ট ‘রোবোটিক সামিট ২০২৬’-এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের বৃহত্তম রোবোটিক হাসপাতাল নেটওয়ার্ক এবং রোবোটিক সার্জারি প্রোগ্রাম হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়, কীভাবে উন্নত রোবোটিক-সহায়ক প্রযুক্তি একাধিক বিভাগে রোগী পরিষেবা এবং অস্ত্রোপচারের ফলাফলকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। ৩০০০-রও বেশি সফল রোবোটিক সার্জারি, ৩০-জনেরও বেশি দক্ষ রোবোটিক সার্জনের দল, ১০টিরও বেশি সার্জিক্যাল বিশেষত্বে দক্ষতা এবং কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থাপিত পাঁচটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা নেটওয়ার্কটি দেখিয়েছে কীভাবে এই প্রযুক্তি অধিক নির্ভুলতা, কম আঘাতজনিত অস্ত্রোপচার, দ্রুত আরোগ্য, কম পোস্ট-অপারেটিভ জটিলতা এবং উন্নত রোগী ফলাফল নিশ্চিত করছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের রোবোটিক সার্জারি বিশেষজ্ঞদের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে বিশেষ ‘রোবোটিক ডক্টর ব্যাজ’-ও চালু করা হয়। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সচেতনতা, শিক্ষা এবং যৌথ জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট জুন ২০২৬-এ একটি বিশেষ ‘রোবোটিক ওয়ার্কশপ’-এর আয়োজনের কথাও ঘোষণা করেছে। এই কর্মশালায় চিকিৎসক, কর্পোরেট প্রতিনিধি এবং সংবাদমাধ্যমের সদস্যরা অংশ নেবেন। সেখানে রোবোটিক-সহায়ক সার্জারির প্রযুক্তি, তার ক্লিনিক্যাল সুবিধা, বিভিন্ন বিভাগে তার ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের নির্ভুল চিকিৎসা ব্যবস্থায় তার বাড়তে থাকা ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
‘রোবোটিক সামিট ২০২৬’-এর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. সুশ্মিতা মিত্র বলেন, “ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্রমশ স্মার্ট প্রযুক্তি, মেশিন লার্নিং, মেডিক্যাল ইমেজিং এবং রোবোটিক-সহায়ক প্রযুক্তির একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আরও উন্নত হয়ে উঠবে। বর্তমানে রোবোটিক প্রযুক্তি শুধু অস্ত্রোপচারের নির্ভুলতা এবং ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই নয়, বরং আরও নিরাপদ, কম আঘাতজনিত এবং রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডেটা সায়েন্স এবং বুদ্ধিনির্ভর প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে জটিল রোগ নির্ণয়, পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ‘রোবোটিক সামিট ২০২৬’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম চিকিৎসক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং উন্নত রোগী পরিষেবাকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে। মণিপাল হসপিটালস ইস্ট যে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিকিৎসার প্রসারে এবং রোবোটিক ও এআই-নির্ভর চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে, তা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।”
রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির অগ্রগতি নিয়ে ড. কুণাল সরকার বলেন, “রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সার্জিক্যাল দক্ষতার একসঙ্গে ব্যবহারে হৃদরোগ চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আগে যেসব অস্ত্রোপচারে বড় চেরা এবং দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতো, এখন তা অনেক ছোট ছেদের মাধ্যমে অধিক নির্ভুলতার সঙ্গে করা সম্ভব হচ্ছে। এতে রোগীর শারীরিক আঘাত কম হচ্ছে, ব্যথা কম হচ্ছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। রোবোটিক প্রযুক্তি সার্জনদের উন্নত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয়, যার ফলে জটিল হৃদরোগ সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। মণিপাল হসপিটালস ইস্ট পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রোগীদের জন্য বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে দেশের অন্যতম উন্নত রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি প্রোগ্রাম গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
রোবোটিক-সহায়ক ক্যানসার সার্জারির বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা নিয়ে ড. সৌরভ দত্ত বলেন, “বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোবোটিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত জটিল অনকোলজিক্যাল অস্ত্রোপচার আরও বেশি নির্ভুলতা এবং নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে করা সম্ভব হচ্ছে। মণিপাল হসপিটালস ইস্টে রোবোটিক অনকোলজি বিশেষ করে শরীরের জটিল অংশে থাকা টিউমারের অস্ত্রোপচারে অসাধারণ সাফল্য এনে দিয়েছে। এর ফলে রক্তক্ষরণ, অপারেশনের পর ব্যথা, সংক্রমণের ঝুঁকি এবং সুস্থ হতে সময়—সবই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত কয়েক বছরে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল, থোরাসিক, গাইনোকলজিক্যাল এবং ইউরোলজিক্যাল ক্যানসার সার্জারিতে রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নত রোবোটিক সিস্টেম এবং বহু-বিভাগীয় বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে আমরা পূর্ব ভারতের ক্যানসার রোগীদের জন্য আরও নিরাপদ অস্ত্রোপচার, দ্রুত আরোগ্য এবং উন্নত দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছি।”
অর্থোপেডিক্সে রোবোটিক প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে ড. বিকাশ কাপুর বলেন, “রোবোটিক-সহায়ক অর্থোপেডিক সার্জারি জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট এবং হাড়-সংক্রান্ত চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীভিত্তিক অত্যন্ত নিখুঁত সার্জিক্যাল পরিকল্পনা করা সম্ভব হচ্ছে। রোবোটিক প্ল্যাটফর্ম সার্জনদের ইমপ্লান্টের সঠিক অবস্থান এবং অ্যালাইনমেন্ট নিশ্চিত করতে সাহায্য করে, যা রোগীর দ্রুত সুস্থ হওয়া, কম ব্যথা, দ্রুত পুনর্বাসন এবং দীর্ঘস্থায়ী ইমপ্লান্টের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে ১৫০০-রও বেশি রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা রোগীদের আস্থারই প্রতিফলন। বর্তমানে রোবোটিক হাঁটু এবং হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির ফলে রোগীরা কম সময় হাসপাতালে থাকছেন এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থোপেডিক চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট সমস্যায় ভোগা রোগীদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
রোবোটিক-সহায়ক স্বাস্থ্য পরিষেবার বাড়তে থাকা অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট আগামীদিনেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে পূর্ব ভারতে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সার্জিক্যাল উৎকর্ষ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

