News Hungama:
সমাজসেবাকে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দু’দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কর্মা সোশ্যাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।

প্রতি বছর যেখানে এই আয়োজন একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, সেখানে এ বছর সুন্দরবনের ধনেখালি এলাকায় একটি অনাথ আশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে সামনে রেখে কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো হয়েছে বলে ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে

ট্রাস্টের কর্ণধার ও বিশিষ্ট আইনজীবী অনিল দাস জানান, আবহাওয়ার অনুকূলতা, শিশুদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার সময়সূচি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার কথা মাথায় রেখেই প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাঁর সঙ্গে এই সামাজিক যাত্রাপথে শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী মামনি দাস এবং সন্তান অমৃতাংশু দাস ও মানিলা দাস। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই সময়টিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এ বছরের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টায়। প্রয়াত সমাজসেবী ও প্রখ্যাত সাংবাদিক বিজয় রায় মহাশয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আয়োজকদের মতে, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিক চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে বিজয় রায় মহাশয়ের জীবনদর্শনই তাঁদের এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। সেই কারণেই এবছরের সম্পূর্ণ আয়োজন তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিনেই বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর পাশাপাশি প্রতিভাবান শিশু শিল্পীরা রং ও তুলির মাধ্যমে ক্যানভাসে নিজেদের শিল্পভাবনা তুলে ধরেন। এই শিল্পকর্মগুলি ভবিষ্যতে ধনেখালিতে গড়ে ওঠা অনাথ আশ্রমে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আদিবাসী নৃত্য, পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ছৌ নৃত্য, বিরাটি এলাকার নৃত্যদলের পরিবেশনা এবং সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যকে তুলে ধরাই এই মঞ্চের মূল লক্ষ্য।
প্রথম দিনের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত বিজয় রায় মহাশয়ের জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিশিষ্ট সমাজসেবী সঞ্জয় রায়। তিনি জানান, তাঁর পিতার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে এমন একটি মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি গভীরভাবে আপ্লুত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুনাল শাহ (WB Boxing Federation), প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক বাদল সরকার, সমাজসেবী অর্নিবান সামন্ত এবং সমাজসেবীকা মহুয়া বৈদ্য।
দ্বিতীয় দিনে ২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ‘বসে আঁকো’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আদিবাসী নৃত্য, সংগীত ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে সমাজের সামনে অনাথ আশ্রম প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এই দিনের বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাস্কিন বক্স (WBCS), প্রখ্যাত চিত্রকর দিবাকর চক্রবর্তী, অভিনেতা ও পরিচালক রিওয়িক জয়সওয়াল, অভিনেত্রী ইননায়া চৌধুরি, প্রযোজক অর্জুন গুপ্ত, সমাজসেবীকা সীমা ভৌমিক এবং মডেল সাহানি চ্যাটার্জি। পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
প্রসঙ্গত, কর্মা সোশ্যাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও বস্ত্রদান কর্মসূচির মতো একাধিক সমাজসেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। ট্রাস্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছরের প্রধান লক্ষ্য সুন্দরবনের ধনেখালি এলাকায় একটি অনাথ আশ্রম গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই শিল্প ও সংস্কৃতিনির্ভর সমাজসেবামূলক আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

